মানসিক শান্তি কেড়ে নেওয়া মানুষদের থেকে দূরে থাকুন!

 

Mental Stress

মানুষের জীবনে সবচেয়ে দামি জিনিস কী জানেন?

টাকা না, চাকরি না, সম্মানও না।

সবচেয়ে দামি জিনিস হলো মানসিক শান্তি।

কারণ টাকা হারালে আবার টাকা আসে, চাকরি হারালে নতুন চাকরি হয়, সম্মানও অনেক সময় ফিরে পাওয়া যায়।

কিন্তু মানসিক শান্তি হারালে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও জীবনটা ভারী লাগে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ থাকে, যারা সরাসরি শত্রু নয়, কিন্তু তাদের কথাবার্তা, আচরণ, সন্দেহ, তুলনা কিংবা অবহেলা ধীরে ধীরে আমাদের মানসিক শক্তিকে ক্ষয় করে দেয়। তারা হয়তো খুব কাছের পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু কিংবা সহকর্মী। তাদের কথা আমরা সহজে এড়িয়ে যেতে পারি না, কারণ সম্পর্কের একটা দায় থাকে। কিন্তু সেই দায় যদি প্রতিদিন আমাদের ভেতরের শান্তিটাকে টক্সিক করে দেয়, তাহলে সেই সম্পর্ক আর সম্পর্ক থাকে না তা হয়ে ওঠে এক ধরনের মানসিক চাপ।

ধরনের মানুষদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তারা আপনাকে বারবার ছোট করে দেখায়। আপনার ভুল খোঁজে, আপনার অর্জনকে তুচ্ছ করে, আপনার সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, আর আপনাকে এমনভাবে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয় যেন আপনি নিজেকেই বিশ্বাস করতে ভুলে যান। কখনও কখনও তারা সরাসরি অপমান না করলেও তাদের কথার ভঙ্গি, চোখের ভাষা কিংবা অবহেলার মধ্য দিয়েই কষ্ট দিয়ে যায়। ফলে আপনি ধীরে ধীরে হাসতে ভুলে যান, নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, এবং নিজের ভেতরেই ভেঙে পড়েন।

অবস্থায় সবচেয়ে বড় ভুল হলো সবকিছু সহ্য করে যাওয়া। কারণ অনেকেই ভাবে, এরা তো আমার আপন মানুষ, একটু কষ্ট হলেও সহ্য করতে হবে। কিন্তু সত্যি কথা হলো, আপন মানুষ সেই, যে আপনার শান্তি বাড়ায় কমানো নয়। যে মানুষ আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়, সে যতই কাছের হোক, তার থেকে নিজেকে রক্ষা করাটা আত্মস্বার্থ নয় বরং আত্মরক্ষা।

মানসিক শান্তি রক্ষার জন্য প্রথম যে কাজটি করা প্রয়োজন তা হলো সীমা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ আপনি কী সহ্য করবেন আর কী সহ্য করবেন না এই সিদ্ধান্তটা স্পষ্টভাবে নিজের ভেতরে স্থির করতে হবে।না বলতে শিখতে হবে। সব কথা শুনে চুপ করে থাকা মানে সব কথা মেনে নেওয়া নয়, কিন্তু সব কথার উত্তর দিতেও নেই। অনেক সময় নিরবতা সবচেয়ে বড় জবাব।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ফোন কল ধরতে হবে না, সব মেসেজের উত্তর দিতে হবে না, সব আলোচনায় অংশ নিতে হবে না। কারণ আপনার সময় শক্তি সীমিত, আর সেই শক্তি আপনি কারো মানসিক খেলায় নষ্ট করতে পারেন না। যে মানুষ বারবার আপনাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে, তার কাছ থেকে দূরে থাকা মানে ঘৃণা করা নয় এটা নিজের শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়া।

তৃতীয়ত, নিজের ভিতরে একটা মানসিক দেয়াল তৈরি করতে হবে। মানে, অন্যের নেতিবাচক কথাকে ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়া। অনেক সময় মানুষের খারাপ ব্যবহার আসলে তাদের নিজের অসন্তুষ্টি, হতাশা, হিংসা কিংবা ব্যর্থতার প্রতিফলন। তারা আপনাকে আঘাত করে নিজেদের কষ্ট ঢাকার চেষ্টা করে। তাই তাদের কথাকে সত্য ভেবে নিজের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা ঠিক নয়।

চতুর্থত, জীবনে কিছু মানুষকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার সাহস রাখা দরকার। কারণ কিছু সম্পর্ক শুধুই বিষাক্ত। সেখানে যতই চেষ্টা করুন, ভালোবাসা দিন, সম্মান দিন আপনি শান্তি পাবেন না। এমন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন, কিন্তু বেরিয়ে না এলে আপনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলবেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নামে নিজের জীবনকে ধ্বংস করা কখনও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেকে প্রাধান্য দেওয়া। আপনার জীবন আপনার। আপনার শান্তি আপনার। পৃথিবীতে কেউ আপনার জন্য এসে আপনাকে বাঁচাবে না, আপনাকে নিজেকেই বাঁচতে হবে। মানুষকে খুশি করতে গিয়ে যদি আপনি নিজের মনকে ধ্বংস করে ফেলেন, তাহলে লাভ কী? জীবনে এমন মানুষ বেছে নিন, যারা আপনার পাশে দাঁড়ায়, আপনাকে সম্মান করে, আপনার হাসিটাকে মূল্য দেয়।

সত্যি বলতে, কিছু মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার পর আপনি হয়তো অনেককে হারাবেন, অনেক ভুল বোঝাবুঝিও হবে। কেউ বলবে আপনি বদলে গেছেন, কেউ বলবে আপনি অহংকারী হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে আপনি অহংকারী নন, আপনি শুধু শিখেছেন কীভাবে বাঁচতে হয়।

কারণ

**মানুষকে হারিয়ে শান্তি পাওয়া যায়, কিন্তু শান্তি হারিয়ে মানুষ পাওয়া যায় না।**

 


Post a Comment

0 Comments